Skip to main content

টিপা বা লুকলুকি ফলের স্বাস্থ্যগুণ, উপকারিতা ও পুষ্টি উপাদান

লালচে বাদামী রঙের গোলাকার ছোট্ট ফল টিপা বা লুকলুকি । দেখতে যেমন সুন্দর টক-মিষ্টি স্বাদের এই ফলটি পুষ্টিগুণে ভরপুর। 


টিপা বা লুকলুকি  ফলের স্বাস্থ্যগুণ, উপকারিতা ও পুষ্টি উপাদান



প্রতি ১০০ গ্রামে পুষ্টি উপাদান 

প্রোটিন

৩.৯%

ভিটামিন সি

218 মিলিগ্রাম

কার্বোহাইড্রেট (ফ্রুক্টোজ, α এবং β গ্লুকোজ, সুক্রোজ)

21%

ক্যালসিয়াম

175 মিলিগ্রাম

পটাসিয়াম

158 মিলিগ্রাম

ফসফরাস

147 মিলিগ্রাম

আয়রন

118 মিলিগ্রাম

ম্যাগনেসিয়াম

57 মিলিগ্রাম

উপরিউক্ত তথ্য সমূহ  International Journal of Current Medical and Pharmaceutical Research

থেকে নেওয়া। 




লিভারের কর্মক্ষমতা বাড়াতে উপকারী ফল টিপা বা লুকলুকি ।


গবেষণা দেখা যায়, হজম শক্তি ও লিভারের কর্ম ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ডায়রিয়া সারাতে ও কাজ করে ফল টি ।

পুষ্টি বিজ্ঞানীদের মতে এতে আছে ভিটামিন 'সি'।যা খাওয়ার রুচি বাড়াতে এবং মুখের ক্ষত সারাতে ও কার্যকর ।





টক-মিষ্টি স্বাদের দেশীয় ফল টিপা, লুকলুকি বা বেহুই ফল। ইংরেজিতে ইন্ডিয়ান পাম্প বা কফি পাম্প হলেও ঢাকা ও নোয়াখালীতে টিপ ফল, নরসিংদীতে পেলাগোটা, কিশোরগঞ্জে টরফই, এছাড়াও টিপটিপানি, পেলা, পায়েলা, ঝিটকি নামেও ডাকা হয় ।এবং বৈজ্ঞানিক নাম Flacourtia jangomas বা Flacourtia cataphracta


আঙ্গুরের মত দেখতে ফলটি কাঁচায় সবুজ আর পাকলে লালচে বেগুনি, ভেতরের শাশ সাদা গোলাপি বা হালকা বাদামী রঙের। তবে ফলটির পূর্ণ স্বাদ পেতে হাতের তালুতে নিয়ে লাড্ডুর  মত ঘুরিয়ে  বা টিপে যত  নরম করে খাওয়া যায় ততই সুস্বাদু ও মিষ্টি লাগে।

 

টক-মিষ্টি স্বাদের সুস্বাদু ফলটি ভর্তা বা শরবত ছাড়াও আচার হিসেবে ভোক্তার পাতে আনে নতুন সাদ।


ভিটামিন সি বা এসকরবিক এসিডে ভরপুর ফলটিতে আরো আছে ভিটামিন 'বি' কমপ্লেক্স বা থায়ামিন রিবোফ্লাভিন, রয়েছে ক্যালসিয়াম, আয়রন, সালফার, ফসফেট,ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।


হৃদ রোগীদের জন্য উপকারি ফল টিপ বা লুকলুক ।

কম ক্যালরি  ও রক্ত তরল করার উপাদান থাকায় হৃদ রোগীদের জন্য ভেষজ ওষুধের কাজ করছে ফলটি। এছাড়া ডায়রিয়া ও ব্রংকাইটিস রোগের প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করছে।

লুকলুকি বা টিপা ফল এটি একটি অপ্রচলিত ফল অথচ পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। জেনে অবাক হবেন যে, একটি টিপা ফলের প্রায় ৬০ ভাগই আয়রন থাকে। আয়রন থাকার ফলে যারা রক্ত শূন্যতায় ভুগছেন তারা সহজেই আয়রন এর চাহিদা পূরণ করতে পারেন। তাছাড়া এটিতে সালফার, ফসফেট, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন 'সি' সহ আরো অনেক পুষ্টিগুণ থাকায় লিভারের নানাবিধ সমস্যা ও পরিপাকতন্ত্রের যেকোনো ধরনের জটিলতা নিরাময়ে কার্যকর।

ক্যান্সার প্রতিরোধী ফল।

রুচি বৃদ্ধি এবং হজমে সাহায্য কারি ফল টিপ আরো আছে, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা কাজ করছে ক্যান্সার প্রতিরোধে। এছাড়াও এসিডিটির সমস্যা নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে টক-মিষ্টি স্বাদের লুকলুকি।


দেশের পার্বত্য জেলা বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ছাড়াও চট্টগ্রামের পটিয়া, বোয়ালখালী ও চন্দনাইশয়ের পাহাড়ি ভূমিতে প্রাকৃতিকভাবে দেখা মেলে ফলটির।


সকল তথ্য নির্ভরযোগ্য ওয়েব সাইট থেকে সংগীহিত।

Comments

Popular posts from this blog

করমচা মানবদেহে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখে

করমচা মানবদেহে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখে পুষ্টি উপাদান  করমচা ফল হিসেবে বেশ অবহেলিত হলেও এর পুষ্টিগুণ কিন্তু মোটেও অবহেলা করার মতো না! প্রতি ১০০ গ্রাম করমচায় রয়েছে- এনার্জি- ৬২ কিলোক্যালরি কার্বোহাইড্রেট - ১৪ গ্রাম প্রোটিন- ০.৫ গ্রাম ভিটামিন এ- ৪০ আইইউ ভিটামিন সি- ৩৮ মিলিগ্রাম রিবোফ্লেভিন- ০.১ মিলিগ্রাম নিয়াসিন- ০.২ মিলিগ্রাম আয়রন- ১.৩ মিলিগ্রাম ম্যাগনেসিয়াম- ১৬ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম- ২৬০ মিলিগ্রাম কপার- ০.২ মিলিগ্রাম করমচার নানা গুণাবলি আমাদের স্বাস্থ্য রক্ষায় নানাভাবে সাহায্য করে থাকে। টক জাতীয় ফল করমচা। কাঁটায়ভরা ঝোপ জাতীয় গাছটির লালচে সবুজ ফল গ্রাম থেকে শহর সবজায়গায় চাষ করা হচ্ছে।বেটা-ক্যারোটিন, থায়ামিন, রিবোফ্লাভিন এবং নিয়াসিনের মতো উপাদান ছাড়াও এতে আছে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রণের মতো খনিজ উপাদান। আর পুষ্টিবিদরা বলছেন, ক্যালরি কম থাকায় এই ফলটি মানবদেহের রক্তচলাচল স্বাভাবিক রেখে হৃদপিণ্ডের সুরক্ষায় কাজ করে। টক স্বাদের ছোট্ট ফলটি বহির্বিশ্বের বেঙালকারেন্ট বা ক্রিসথর্ণ হলেও বাংলায় মেলে করমচা নামে। ফলটি কাঁচা অবস্থায় সবুজ আর পাকলে ম্যাজেন্ডা রং ধারণ করে। কাঁটাযুক্ত গুল্ম ...
  ড্রাগন ফল এক প্রজাতির ফল।এটি এক ধরণের ফণীমনসা প্রজাতির ফল।এই ফল মুলত ড্রাগন ফল হিসেবে পরিচিত।যার বৈজ্ঞানিক নাম Hylocereus Undatus. ড্রাগনের মত দেখতে এর শরীর।যার কারণে এর নাম ড্রাগন ফল। এক এক দেশে এক এক নামে ডাকা হয় এই ফলটিকে।গণচীনের লোকেরা আগুনে ড্রাগন ফল এবং ড্রাগন মংক্তার ফল,থাইল্যান্ডে ড্রাগন স্ফটিক নামে পরিচিত এবং স্বদেশীয় নাম হলো স্ট্রবেরী নাশপাতি বা নানেট্টিকাফল।এই ফলটি একাধিক রঙের হয়ে থাকে।তবে লাল রঙের ড্রাগন ফল বেশি দেখা যায়। ড্রাগন ফলের পুষ্টিগুণ ড্রাগন বিদেশি ফল হলে ড্রাগন ফলের সতেজ করা স্বাদ ও পুষ্টিগুণের জন্য বাংলাদেশেও এই ফল চাষ হচ্ছে।আর পুষ্টিগুণ কমলা বা গাজরের চাইতে বেশি।ক্যান্সার ও ডায়াবেটিস প্রতিরোধেও ড্রাগন ফল ভূমিকা রাখে।এই ফল খেলে বয়স বাড়ায় চিহ্ন দূর করবে। প্রতি ১০০গ্রাম ড্রাগন ফলে রয়েছে- পানি - ৮০-৯০গ্রাম শকরা - ৯-১০গ্রাম প্রোটিন - ০.১৫-০.৫গ্রাম আঁশ - ০.৩৩-০.৯৯গ্রাম খাদ্যশক্তি - ৩৫-৫০কিলোক্যালরি চর্বি - ০.১০-০.৬গ্রাম ক্যালসিয়াম - ৬-১০মি.গ্রাম আয়রন - ০.৩০-০.৭মি.গ্রাম ফসফরাস - ১৬-৩৫মি.গ্রাম ক্যারোটিন - ভিটামিন-এ থায়ামিন,রিবোফ্লাবিন সামান্য ভিটামিন-বি-৩  -...