করমচা মানবদেহে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখে
পুষ্টি উপাদান
করমচা ফল হিসেবে বেশ অবহেলিত হলেও এর পুষ্টিগুণ কিন্তু মোটেও অবহেলা করার মতো না! প্রতি ১০০ গ্রাম করমচায় রয়েছে- এনার্জি- ৬২ কিলোক্যালরি কার্বোহাইড্রেট- ১৪ গ্রাম প্রোটিন- ০.৫ গ্রাম ভিটামিন এ- ৪০ আইইউ ভিটামিন সি- ৩৮ মিলিগ্রাম রিবোফ্লেভিন- ০.১ মিলিগ্রাম নিয়াসিন- ০.২ মিলিগ্রাম আয়রন- ১.৩ মিলিগ্রাম ম্যাগনেসিয়াম- ১৬ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম- ২৬০ মিলিগ্রাম কপার- ০.২ মিলিগ্রাম করমচার নানা গুণাবলি আমাদের স্বাস্থ্য রক্ষায় নানাভাবে সাহায্য করে থাকে।
টক জাতীয় ফল করমচা। কাঁটায়ভরা ঝোপ জাতীয় গাছটির লালচে সবুজ ফল গ্রাম থেকে শহর সবজায়গায় চাষ করা হচ্ছে।বেটা-ক্যারোটিন, থায়ামিন, রিবোফ্লাভিন এবং নিয়াসিনের মতো উপাদান ছাড়াও এতে আছে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রণের মতো খনিজ উপাদান। আর পুষ্টিবিদরা বলছেন, ক্যালরি কম থাকায় এই ফলটি মানবদেহের রক্তচলাচল স্বাভাবিক রেখে হৃদপিণ্ডের সুরক্ষায় কাজ করে। টক স্বাদের ছোট্ট ফলটি বহির্বিশ্বের বেঙালকারেন্ট বা ক্রিসথর্ণ হলেও বাংলায় মেলে করমচা নামে। ফলটি কাঁচা অবস্থায় সবুজ আর পাকলে ম্যাজেন্ডা রং ধারণ করে। কাঁটাযুক্ত গুল্ম জাতীয় গাছের এই ফলটি প্রথম খোঁজ মেলে এশিয়া, আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ায়। লালচে সবুজ রঙের এই ফলটি আমাদের দেশে সাধারণত গ্রামাঞ্চলের দিকে বেশি সহজলভ্য। টক স্বাদের ফলটি খাবারের স্বাদ বাড়াতে ভোক্তার পাতে থাকে জুস,জেলী,জ্যাম কিংবা আচার হিসাবে। প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-সি বা অ্যাসকরবিক এসিড ছাড়াও ফলটিতে আছে ভিটামিন-এ বা বিটা-ক্যারোটিন, ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স বা থায়ামিন, রিবোফ্লাভিন ও নিয়াসিন। আর ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়ার, পটাসিয়াম, কপার ও আয়রণের মতো খনিজ উপাদান ছাড়াও আছে কার্বোহাইড্রেট ও এন্টিএক্সিডেন্ট। বিজ্ঞানীরা বলছেন আয়রণ রক্তস্বল্পতা দূর করার পাশাপাশি কোলস্টরলের মাত্রা কমাতেও কার্যকরী। আর ভিটামিন-সি মুখের রুচি বাড়িয়ে দাঁত ও মাড়ির সুরক্ষায়ও কাজ করছে। ক্যালরি কম থাকায় ফলটি রক্ত-চলাচল স্বাভাবিক রেখে হৃদপিণ্ডের সুরক্ষা দেয়। আর সাহায্য করে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ কমাতেও। যকৃত ও কিডনির রোগ প্রতিরোধে বাতরোগ বা ব্যাথা জনিত জ্বর নিরাময়ে করমচা খুব উপকারী। পুষ্টিবিদ, ড. মনিরুল ইসলাম বলেছেন, ছোট্ট এই ফলটি ফ্যাটফেরি, কোলস্টরলফেরি এবং এটা ওজন কমাতে যে কেউ অনায়াসে খেতে পারেন। তাছাড়া এখানে উল্লেখযোগ্য দিক হলো ভিটামিন-বি থাকে। ফলে চুলকানি রোধে এবং দেহের অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ রোধে অত্যন্ত কার্যকরি। তাছাড়া পটাশিয়াম থাকে, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে। *তবে যাদের পটাশিয়ামের মাত্রা বেশি তাদের করমচা কম খাওয়ার পরামর্শ পুষ্টিবিদদের।


Comments
Post a Comment